বস্তুনিষ্ঠ সত্য হলো নারীর অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি থাকলেও অভ্যন্তরীণ সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক কাঠামো এখনও নারীর প্রকৃত স্বাধীনতার পথে প্রধান বাধা।
- পরিবারের স্তরেই নারী জন্ম থেকেই বৈষম্যের শিকার; মেয়ের শিক্ষা, খাবার, পোশাক, বেড়ে ওঠা সব কিছুতেই অসম বণ্টন।
- বিয়ের পর পোশাক-চলাফেরা, সন্তান নেয়া, ক্যারিয়ার সবই শ্বশুরবাড়ির মান-সম্মান, সমাজ, ধর্মীয় বাঁধা ও স্বামীর খুশির জন্য বিলীন।
- কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি, সমান মজুরি না পাওয়া, পদোন্নতির ক্ষেত্রে গুজব ও হেয় করা, মানসিক নিরাপত্তাহীনতা।
- আইন, প্রশাসন, বিচার সবক্ষেত্রেই নারীর প্রতি অবজ্ঞা; ধর্ষণ, নির্যাতন, এসিড হামলায় বিচার পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা।
- নির্বাচন, রাজনীতি, নেতৃত্ব সব জায়গায় নারী কোটা নির্ধারিত থাকলেও, প্রকৃত ক্ষমতা বা সিদ্ধান্তে তাদের উপস্থিতি ক্ষীণ।
নারী অধিকার মানে কেবল ভোটাধিকার, স্কুলে যাওয়া, চাকরি না; প্রকৃত অর্থে নারী অধিকার হলো নিজের ইচ্ছায় জীবন গড়ার সুযোগ, প্রেম-ভালোবাসা, বিয়ে, সন্তানের সংখ্যা, ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত, সম্পত্তির মালিকানা, শরীরের উপর নিজেদের সিদ্ধান্ত, ন্যায়বিচার পাওয়ার সমান সুযোগ।
এদেশে নারীর চলার পথ এখনো কাঁটায় ভরা; পোশাক, চেহারা, ধর্ম, পরিবার, মিডিয়া সবখানে নারীকে পণ্য, দোষী, বা ‘অপর’ হিসেবে দেখানো হয়। ধর্মীয় উপদেশ, সমাজের আঙ্গুল তোলে ‘ভালো মেয়ে’র সংজ্ঞা; আর আইন, প্রশাসন কথাতে নয়, কাজে নারীর পাশে থাকে না।
তবুও আশা হারায়নি। নতুন প্রজন্মের নারী, শিক্ষিত সমাজ, সোচ্চার মিডিয়া, নাগরিক আন্দোলন সবাই কাঠামো ভাঙার লড়াইয়ে যুক্ত হয়েছে। অনেক নারী আজ সম্পত্তির মালিক, প্রতিষ্ঠানপ্রধান, নেতৃত্ব দিচ্ছেনতবে দৃষ্টান্তের বাইরে সাধারণ নারীর জন্য পথ এখনও দীর্ঘ ও কণ্টকময়।
নারী অধিকার মানে শুধু সুবিধা পাওয়া নয় নিজস্ব পরিচয়, অধিকার, আত্মবিশ্বাস, নিজের জীবনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পূর্ণস্বাধীনতা। এ দেশে নারী অধিকার বেঁচে থাকবে কেবলমাত্র যখন পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সম্মিলিতভাবে নারীর মানসিক ও সামাজিক দুর্গ গড়ে তুলবে, আইনের চোখে সমান মর্যাদা দিতে শিখবে, পুরুষতান্ত্রিক গ্লানি ভাঙবে।
নারী শুধু কারও মা, বোন, স্ত্রী, মেয়ে নয় সে একজন মানুষ, মানুষ হিসেবে সম্পূর্ণ অধিকার তার অবশ্যপ্রাপ্য এটাই হোক আগামী দিনের বাস্তবতার মুখোমুখি নতুন সমাজের শপথ।
33 Responses
অনেক কিছু বদলাতে হলে মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।
সম্প্রীতি ও সম্মান বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং।
এই লেখায় অনেক প্রশ্ন তুলেছেন, কিছু উত্তর নেই।
নারীর মর্যাদা দেয়া জরুরি, শুধু কথায় নয়, বাস্তবে।
এত সহজ নয় নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
নারীর জন্য সমান সুযোগ এখনও সীমিত।
বিশ্লেষণে আরও গভীরতা আশা করতাম।
নারী অধিকার মানে শুধু আইন নয়, সামাজিক স্বীকৃতিও জরুরি।
বাংলাদেশে সমাজে পরিবর্তন আসতে সময় লাগবে।
সবার জন্য সমান অধিকার এখনও স্বপ্ন।
প্রচলিত নিয়ম বদলাতে হলে পাঠ্যপুস্তকেও পরিবর্তন দরকার।
আপনার প্রতিবেদন সমাজে আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে।
সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মনে হয় না।
নারী অধিকার নিয়ে আলোচনা দরকার, তবে বাস্তবতা অনেক কঠিন।
পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়।
একসঙ্গে কাজ না করলে পরিবর্তন সম্ভব নয়।
অনেক কিছু অস্পষ্ট রেখে বলেছেন মনে হলো।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চিন্তা করা দরকার।
ন্যায়ের কথা বলেছেন, তবে সমাজে বাধা প্রচুর।
সমাজ বদলাতে হলে ব্যক্তি মানসিকতা আগে বদলাতে হবে।
বিষয়টি জটিল, সহজ সমাধান নেই।
নারী নিরাপত্তা প্রশ্নে রাষ্ট্র ও সমাজ দুই পক্ষই দায়ী।
নারী প্রতি বৈষম্যের বিরুদ্ধে আরও সোচ্চার হতে হবে।
সমাজ ও রাষ্ট্র উভয়ের ভূমিকা নিয়ে ভাবা দরকার।
এই ধরনের লেখায় আশা পাই।
পরিবর্তন সম্ভব, তবে দীর্ঘ লড়াই দরকার।
আপনার বিশ্লেষণ প্রাসঙ্গিক, আরও উদাহরণ দরকার ছিল।
তত্ত্বের চেয়ে বাস্তবতার গুরুত্ব বেশি।
ন্যায়বিচার চাইলে নারীপুরুষ দুই পক্ষেরই কার্যকর অংশগ্রহণ দরকার।
প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন ছাড়া নারীর উন্নয়ন কঠিন।
সবাই সচেতন না হলে নারীর অধিকার বাস্তবায়ন অসম্ভব।
আপনার মত কিছু ক্ষেত্রে সাহসিকতা দেখিয়েছে।
নারী অধিকার নিয়ে বিতর্ক চালু থাকা উচিত।