পারিবারিক পরিসরে নারী নির্যাতন

পারিবারিক নির্যাতন অনেকরকম শারীরিক নিপীড়ন (চড়, ঘুষি, লাথি, গলা টিপে ধরা, হাত-পা বেঁধে রাখা), মানসিক নির্যাতন (অপমান, গালিগালাজ, হুমকি, সন্দেহ, মূল্যহীনতা), অর্থনৈতিক নিপীড়ন (টাকা না দেওয়া, নিজের আয় বা সম্পত্তিতে অবরোধ, সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা), যৌন হয়রানি (অনিচ্চায় যৌন সম্পর্ক, সম্মতি না নিয়ে জোর), সামাজিক নিয়ন্ত্রণ (কোথায় যাবে, কার সঙ্গে কথা বলবে, শিক্ষিত হবে কি না, চাকরি করতে অনুমতি), এবং বিবাহিত জীবনে খোরপোষ, তালাক, সন্তানের হেফাজত নিয়ে নানা নির্যাতন।

মেয়েশিশুরা চুপ থেকে এই পারিবারিক মানসিক নিপীড়নকে “স্বাভাবিক” ভাবতে শেখে বাবার চড়, ভাইয়ের নিষ্ঠুরতা, মায়ের মৌনতা; বহু নারী বিয়ের পরে মানিয়ে নিতে, চুপ করে সহ্য করতে, সংসার রক্ষার নামে জুলুম মুখ বুজে নিতে শেখেন।

তিনবেলা ঘরের কাজ, সন্তানের দেখভাল, শাশুড়ির অপমান, সন্তানের বাবার হুমকি বা সন্দেহ সব কিছু নিঃশব্দে নিলামে ওঠে। কেউ প্রতিবাদ করলে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন, পারিবারিক সম্পর্ক ধ্বংস, সন্তানের দায়িত্বহীন মা এইসব অপবাদ সইতে হয়।

আইন, পুলিশ, সমাজ সবাই ‘পারিবারিক বিষয়’, ‘অল্পকথা, মিটে যাবে’, কিংবা ধর্মীয় পর্দার আড়ালে এসব সমস্যাকে ব্যক্তিগত বলে পাশ কাটিয়ে যায়। ফলে অধিকাংশ নারী নির্যাতন ঘরের ভেতরেই ঘনীভূত, অপরাধীর বিচার হয় না।

এভাবে বছরে হাজারো নারী খুন হন, আত্মহত্যা করেন, চরম দারিদ্র্য ও আত্মসম্মান হারান, অথচ দেশের চোখ কখনো সেই দেয়ালের ফাঁক দিয়ে দেখে না। পরিবারে নির্যাতনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদনিজের অধিকার, শিক্ষার সুযোগ, আর্থিক স্বচ্ছলতা, আত্মবিশ্বাস, সামাজিক নেটওয়ার্ক, ও সচেতনতা।

পারিবারিক নির্যাতনকে ‘পারিবারিক’ বলে গোপন রাখা নয় বরং সামাজিক, আইনী, রাষ্ট্রীয় আওতায় আনা দরকার; সম্পূর্ণ নারী, শিশু ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বিচার, এবং সচেতনতা কর্মসূচি লাগাতার গ্রহণ করা জরুরি।

সমাজে নারীর সম্পূর্ণ মানুষ হিসেবে মর্যাদা এটিই পারিবারিক নির্যাতন-সহ্য করার অপসংস্কৃতি রুখে দিতে পারে। পরিবার বদলাতে হলে, সবার আগে বদলাতে হবে গৃহের চিন্তা, আচরণ, ভাষা, দৃষ্টিভঙ্গি।

32 Responses

  1. প্রত্যেক পরিবারকে সচেতন হতে হবে।

  2. শুধু আইন নয়, মানসিকতার বদলাও জরুরি।

  3. পারিবারিক নির্যাতন কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

  4. সমাধান নির্ভর করে পরিবারের মানসিক ও সামাজিক শিক্ষা কেমন তার ওপর।

  5. নারী নির্যাতন নিয়ে আরও খোলামেলা বিতর্ক দরকার।

  6. সমালোচনা করেও দায়িত্ব নেওয়া দরকার।

  7. নারী অধিকার নিশ্চিত করলে সমাজ এগোবে।

  8. নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ সাহসের কাজ।

  9. নারীর ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ সর্বস্তরে ছড়াতে হবে।

  10. বিষয়টি আরও বিশ্লেষণমূলক হতে পারত।

  11. সমষ্টিগত প্রয়াস ছাড়া সমস্যা যাবে না।

  12. সমাজ বদলাতে হলে পরিবারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

  13. কিছু পরামর্শ দিলে সমাধান খুঁজতে সুবিধা হতো।

  14. বরাবরই এই বিষয়ে আলোচনার ঘাটতি থাকে।

  15. শুধু সমালোচনা নয়, উদ্বুদ্ধ করার গল্পও জরুরি।

  16. পরিবারের সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আরও সচেতন হওয়া উচিত।

  17. তথ্য-উপাত্ত থাকলে আলোচনা আরও শক্তিশালী হত।

  18. নারী নির্যাতনের শিকড় গভীরে, সমাধান সহজ নয়।

  19. সবাইকে সচেতন করতে চাইলে আরও প্রচার দরকার।

  20. নতুন পথের সন্ধান দেননি, কেবল সমস্যা দেখিয়েছেন।

  21. পরিষ্কারভাবে সমস্যা চিহ্নিত করায় লেখক সচেতনতার পরিচয় দিয়েছেন।

  22. যারা নির্যাতনের শিকার, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব।

  23. বিষয়টি খুব সংবেদনশীল।

  24. পরিবারের অভ্যন্তরীন সংস্কার জরুরি।

  25. নতুন কিছু জানলাম, লেখককে ধন্যবাদ।

  26. লিখেছেন ভালো, আরও উদাহরণ দিলে ভালো হতো।

  27. অনেকে বিষয়টি এড়িয়ে যায়এ কারণে সমস্যা থাকেই।

  28. নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবারে সচেতনতা চাই।

  29. শক্ত ও সাহসিকতার কথা বলেছেন।

  30. বিভিন্ন শ্রেণিতে সমস্যা ভিন্নসমাধানও ভিন্ন হওয়া উচিত।

  31. নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে একজোট হওয়া দরকার।

  32. আইনের সঠিক প্রয়োগ ছাড়া পরিবর্তন সম্ভব নয়।

Leave a Reply to আশরাফ আলি শিরিন Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *