নারীরা বেশি শিকার হলেও, শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, পুরুষ, বয়োবৃদ্ধ কারও জায়গা ছাড়ে না এই অদৃশ্য হিংস্রতা। মেয়েকে মোটা হলে, ছেলেকে খাটো হলে, কেউ কালো হলে, কেউ হিজাব কিংবা সাজে আলাদা হলে, কোনো প্রতিবন্ধী থাকলে শুরু হয় হাজার রকম অপমান, ঠাট্টা, তুলনা, ছিছিক্কার, “তুই সুন্দর না, বিয়ে হবে না”, “তুই ভালো ছেলে না, তোকে কেউ পছন্দ করবে না”। সবার সামনে শরীর নিয়ে হাস্যরস, ব্যক্তিগত আলাপ নিয়ে গুজব এটাই সমাজে সবচেয়ে প্রচলিত বুলিং।
বডি শেমিং শুধু সামাজিক অপমান নয় এটা জীবনের প্রতিটি স্তরে আত্মবিশ্বাসের ভাঙন, মানসিক স্বাস্থ্যকে চরম খাদের দিকে ঠেলে দেয়। অনেকে নিজের শরীর-চেহারার জন্য বাড়িতে, স্কুলে, বন্ধুবান্ধব বা অফিসে শুধুমাত্র চুপচাপ ‘সহ্য করতে’ শেখে। নিজেদের শক্তি, যোগ্যতা, স্বপ্নের কথা বলতে পারে না, প্রেম, আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব সব কিছুতেই পিছিয়ে যায়। চেহারার অপমান, পোশাকের চাপে কেউ কেউ মানসিক বিষণ্ণতা, আত্মহত্যার পথে হাঁটে; কারও সম্পর্ক ভেঙে যায়, কেউ সমাজ থেকে একা হয়ে যায়।
মিডিয়া, বিজ্ঞাপন, সিনেমা, নাটক সবারাই “আইডিয়াল বডি”, “ফর্সা সুন্দরী”, “মডেল ফিগার”, “ছিপছিপে যৌবন” এইসব অমানবিক স্ট্যান্ডার্ড ছড়িয়ে সমাজকে আরও বেশি বিষাক্ত, অনিরাপদ করে তুলেছে। সুন্দর শুধু রূপে নয়, মন, কাজ, ব্যক্তিত্ব এই সহজ শিক্ষাটি সমাজে পৌঁছায় না।
পরিবারে, বন্ধুদের মাঝে “ভালোর জন্য বলছি”, “ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা” নামে অপমান, তুলনা, নিগ্রহ সবচেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর। অজান্তেই নিজের সন্তান, বোন, বন্ধু, সহকর্মীর আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দেয়।
এই সামাজিক ক্ষত থেকে মুক্তি পেতে চাই নিজের চেহারা, শরীর, উচ্চতা নিয়েই নিজের মতো করে বাঁচার সাহস। কারও শরীর, বাহ্যিক রূপ নয়; যোগ্যতা, মন, সততা, মানবিকতা, স্বপ্ন, কাজ এটাই মানুষের পরিচয়।
বডি শেমিং বন্ধ করতে পরিবার, শিক্ষক, গণমাধ্যম, সামাজিক নেতৃবৃন্দ সবার সম্মিলিত উদ্যোগ, ইতিবাচক শিক্ষা, সাহসিকতা, এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করাই দরকার।
সমাজের, মিডিয়ার, পরিবার ও শিক্ষাঙ্গনের সবাই সচেতন হলে বডি শেমিং কমবে।
প্রত্যেক মানুষের আসল সৌন্দর্য তার আত্মপরিচয়, আত্মবিশ্বাস, সততা, মানবিকতা ও স্বপ্নে। এইসবের প্রতি সম্মান, সাহস আর উদারতা বাড়াতে হবে।
33 Responses
নিজেকে স্বীকার করে নেওয়া সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সমাধানের উপায় নিয়ে লেখা দরকার ছিল।
উপেক্ষিত বিষয় নিয়ে লেখা প্রশংসনীয়।
এসব বদলাতে হলে পারিবারিক শিক্ষার দরকার।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলা সাহসের।
নিজেকে ভালোবাসা শিখতে হবে।
এই সমস্যা নিয়ে কথা বলা দরকার ছিল।
আপনার লেখা নিয়ে ভাবতে বাধ্য হলাম।
সমাজ বদলাতে হলে মনের সংজ্ঞা বদলাতে হবে।
সামাজিক প্রত্যাশা কমাতে হবে।
সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দরকার।
লাইফস্টাইল ও সচেতনতা বাড়ানো দরকার।
ভিন্নমত থাকতেই পারে, তবে সম্মান বজায় রাখা জরুরি।
আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সব সমাজের দায়।
সামাজিক প্রতিটি ক্ষেত্রেই বডি শেমিংয়ের ছাপ পড়ে।
সমাজের ছোট ছোট কথায়ও মানুষের আত্মবিশ্বাস কমে যায়।
বডি শেমিং নিয়ে সমাজে আরও আলোচনা দরকার।
আপনার লেখায় অনেক প্রশ্ন আছে, কিছু উত্তর মেলে না।
নিজস্ব গল্প থাকলেও, তথ্য-উপাত্ত দরকার ছিল।
শারীরিক গঠন বিচার করার মানসিকতা বদলাতে হবে।
বডি শেমিংয়ের জেরে মানসিক স্বাস্থ্যে বড় প্রভাব পড়ে।
বডি শেমিং সমাজের এক বড় ব্যাধি।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক বার্তা জরুরি।
তথ্য-উপাত্তের ওপর আরও জোর দেয়া যেত।
এটা শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামাজিক সমস্যাও।
সবার কথা শোনার সাহস দেখানোর জন্য ধন্যবাদ।
অপমানের ভাষা বন্ধ হওয়া জরুরি।
আপনার লেখায় সচেতনতার signs আছে।
শুধু নারী নয়, শিশু ও পুরুষও এই সমস্যার শিকার।
বডি শেমিং এক নিঃশব্দ সামাজিক ক্ষত।
সব সময় নিজের ওজন, উচ্চতা নিয়ে চিন্তা করা মানে সমাজিক চাপ বাড়ানো।
সব ধরনের শরীরকে সম্মান করা জরুরি।
সব দিক বিবেচনা করেই সমাধান খুঁজতে হবে।