মনের শান্তির আড়ালে নারীর অশান্তির কান্না

মানুষের মন, অনুভূতি, স্বপ্ন সবচেয়ে বড় স্বাধীনতার চাহিদা নারীর ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। মেয়ের মনে শান্তির মোড়কে বাস্তব অশান্তি চাপা পড়ে থাকে জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নিজের চাহিদা, ইচ্ছা, অধিকার বিসর্জন দিতে হয়। সংসারের সেবা, সন্তানের দায়িত্ব, স্বামীর আনন্দ, সমাজের ধারণা, ধর্মীয় আচার সবকিছুতেই মেয়েরা আত্মপরিচয় হারিয়ে ফেলে।

ছোটবেলা থেকে শেখানো হয়, “ভালো মেয়ে মানে চুপ থাকা, ঝগড়া না করা, নিজের আবেগ আড়াল রাখা, কারও বিরুদ্ধে না যাওয়া।” এই “ভালো মেয়ের মানে শান্ত মেয়ে” সিন্ধান্তহীন, প্রতিবাদহীন, চাওয়া বলতে শুধু অন্যের সুখ। অথচ সমাজ, ধর্ম, পরিবার কেউ জানতে চায় না, আসলে সেই শান্তির নিচের স্তরে কোন অজানা অসন্তোষ, কষ্ট, ক্ষোভ, অভিমান লুকিয়ে থাকে।

নারী যখনই নিজের অশান্তির কথা বলতে চায়, তখন সমাজ তার ওপর ‘অহংকারী’, ‘পারিবারিক’, ‘পাপী’ ইত্যাদি তকমা ঝুলিয়ে দেয়। তাকে স্থিরতা, মেনে নেওয়া আর আত্মত্যাগে আবদ্ধ থাকতে চাপ দেয়। মেয়ের চোখের জল, ঘুমহীন রাত, না বলা কথা, স্বপ্নভঙ্গ সবকিছু ঢেকে ফেলা হয় “মনের শান্তি”-র ছদ্মবেশে।

নিরবে সহ্য করা, আত্নত্যাগ এসবই বিরাট মিথ্যা এক আত্মপ্রবঞ্চনা, যা ধর্মীয় অনুশাসন ও সামাজিক রীতিনীতির নামে নারীর মনের অশান্তিকে বাস্তুহারা বানিয়ে দেয়।
একটা সমাজ, দেশ বা পরিবারের যতক্ষণ না পর্যন্ত নারীর অশান্তির কথা স্বীকার করা হবে, যতদিন না নারীর মতো নিজের ভালো লাগা, না লাগা, আবেগ, নিরাশা প্রকাশ করতে পারবে ততদিন পর্যন্ত কোন শান্তিই টেকসই নয়।

সমাজ এবং পরিবারের উচিত, নারীর কণ্ঠস্বরকে, আত্মপরিচয়কে, তার স্বপ্ন আর দুঃখের গল্প শুনতে শেখা। শুধু শান্তির নাটক নয় নিজের জীবনের, মনের, অনুভূতির ওপর পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠার সাহসিকতাই নারীর আসল মুক্তি।

29 Responses

  1. শান্তির খোলসে চাপা পড়ে থাকে কষ্ট।

  2. পরিবর্তন আনতে সামাজিক সচেতনতা দরকার।

  3. নারীর কষ্ট সম্পর্কে মুখ খোলার সাহস দেখিয়েছেন।

  4. কান্না কখনোই শোনা যায় না, অনুভব করতে হয়।

  5. এই বিষয়ে আরও গবেষণা দরকার।

  6. সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন জরুরি।

  7. নারীর ট্রমা নিয়ে আরও তথ্য দরকার ছিল।

  8. এতদিন কেউ লিখেনি।

  9. এ ধরনের লেখার জন্য ধন্যবাদ।

  10. চাপা কান্না সবসময় দেখা যায় না।

  11. সব বলতে পারা যায় না, কিছু কষ্ট অজানা থাকে।

  12. নারীর দুঃখ অনেকটাই মুখের বাইরে আসে না।

  13. নারীর মনোবেদনা সমাজে উপেক্ষিত।

  14. কিছু পরিবারে নারীর কষ্ট দেখেও চুপ থাকে সবাই।

  15. সমাজে নারীর অশান্তি অনেকেই বুঝতে পারে না।

  16. মনোবিষয়ক সমস্যা নিয়ে আলোচনা জরুরি।

  17. জীবনের বিষয়ে সেই ভাবনা দরকার ছিল।

  18. সবার মাঝে এগিয়ে আসার সাহস কাম্য।

  19. সমাজে নারীর অবস্থান উন্নত করতে মনোযোগী হতে হবে।

  20. কষ্টের কথা বলতে সাহস লাগে।

  21. এত বিষয়ে খোলামেলা আলোচনার দরকার ছিল।

  22. বাহ্যিক শান্তি সমাজে প্রাধান্য পায়, ভিতরে অশান্তি বোঝা যায় না।

  23. সহানুভূতির ভাষা ছিল লেখায়।

  24. কিছু বাস্তব গল্প শুনতে হত।

  25. শান্তির আড়ালে মনোবেদনা সমাজে প্রবল।

  26. নারীর মনের শান্তি অনেক সময় বাহ্যিক, ভিতরে বিপর্যয়।

  27. মনের কষ্ট আলোকপাত জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *