অভিজিৎ, জুলহাসঃ রক্তের স্রোতে মৌলবাদ-ধর্মান্ধতার গ্লানি

তোমরা মুক্তি চেয়েছিলে, চিন্তা করেছিলে, সাহস দেখিয়েছিলে। আর তার বিনিময়ে ধর্মের দোহাই দিয়ে একদল বিকৃত, অমানবিক খুনি তোমাদের নিভিয়ে দিলো। তোমাদের রক্ত শুকিয়ে মিশে গেছে মাটিতে, কিন্তু এখনও ধর্মান্ধদের চিৎকার থামেনি।

আজকের বাংলাদেশে মুক্তমনা কেউ কলম ধরলেই মৌলবাদীর চাপাতি নেমে আসে। লেখার স্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা, প্রেম, বৈচিত্র্য—সবই ধর্মান্ধদের চোখে শত্রু। জুলহাস-তনয়কে হত্যা করা হয়েছিল কেবল ভালোবাসার, মানবিক অধিকারের পক্ষে দাঁড়ানোর অপরাধে। অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে মারা হয়েছিল কারণ তিনি মোহ, অন্ধ বিশ্বাস, ধর্মীয় শাসন ভাঙার চেষ্টা করেছিলেন। এই হত্যার বিচার হয়নি, এসব হত্যাকে মৌলবাদী গোষ্ঠী গর্বের নিশান বানিয়েছে।

ইসলাম ধর্মের নামে আজও যারা সন্ত্রাস, নৃশংসতা, মানবিক দায়বদ্ধতা ধ্বংস করে চলে, তাদের প্রতি বিদ্বেষ, তীব্র ঘৃণা না থাকলে বিবেক জাগে না। ধর্মের নামে যারা কলম কেড়ে নেয়, ভাষা স্তব্ধ করে, তারা দেশেরও শত্রু, মানবতারও শত্রু। আইন, প্রশাসন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতারা এই রক্তের বিষ নিয়ে নির্লজ্জভাবে আলোচনার ভান করে চলেছে; অপরাধীরা দিব্যি বুক ফুলিয়ে ঘুরছে, নতুন শিকার খুঁজছে।

তোমাদের রক্ত, আমাদের সাহসের জবাব হয়ে রয়ে যাবে। এখনও যারা মানবিকতা, স্বাধীনতা, সমান অধিকার, বৈচিত্র্যের জন্য লড়ছে, তারা অভিজিৎ-জুলহাসদের উত্তরসূরি। তুমি ধর্মান্ধদের চাপাতিকে ভূলে যাবে, অথচ তাদের দম্ভ, তাদের পুরস্কার, তাদের বয়ান দেশে দেশে, গায়ে গায়ে ছড়িয়ে পড়বে; সেই অন্যায়ের প্রতিবাদেই কলম কিন্তু থামবে না।

ধর্মান্ধতা কখনোই দেশের ভবিষ্যৎ হতে পারে না; সত্য, মানবতা, ন্যায়, বিজ্ঞান ও সাহসই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে। জুলহাস, অভিজিৎ—তোমাদের রক্তের প্রতিটি বিন্দুতে নতুন প্রজন্ম, নতুন মানবিক স্বপ্ন, অসাম্প্রদায়িক সাহস জন্ম নেবে। ধর্মের নামে যারা মানুষ হত্যা করে, তারা ইতিহাসে কেবল কলঙ্ক হয়ে থাকবে।

15 Responses

  1. ধর্ম নিয়ে আপনার ভাবনা গুলো আমাকেও ভাবালো

  2. এইগুলা হোলো আপনার অজ্ঞতার কারনে বলা।

  3. সুন্দর এনালাইসিস। ভালো লাগলো আপনার এই তথ্যময় লেখাগুলো।

  4. কুত্তারবাচ্চা শুধু মুসলমান্দের চোখে পড়ে?

  5. আমি আপনাকে ধর্মের পথে আহবান করছি

  6. শুয়োরের বাচ্চা জারজ। তুই তোর ভাবনা লেখার বদলে তোর মাথায় থাকা গোবর পরিষ্কার কর আগে

  7. ইসলাম সম্পর্কে আজাইরা কথা না লিখলে ভালো লাগে না, না?

  8. লন্ডনে থাইকা বাল ফালাও? বালের লেখক হইসো? ওইখানে তো বাসন মাজো, দেশে আইসা কিছু কইরা দেখাও

  9. তোকে জবাই করে ফেলব জারজের বাচ্চা জারজ

  10. তোর লেখা পড়েই বুঝতে পারছি তুই একটা নাস্তিকের বাচ্চা। এসব লেখালেখি বন্ধ কর নাহলে দেশে দেখা মাত্র কিন্তু এক কোপে কল্লাটা ফেলে দিবো এবং কুচি কুচি করে কেটে কুত্তাকে খাওয়াব। তোর রক্ত দিয়ে গোছল করে দেশে ইসলাম কায়েম করবো।

  11. আপু আপনি খুব যত্ন করে লিখেছেন, ধন্যবাদ আপনাকে।

Leave a Reply to ঝিল্লু রহমান Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *