আমি সৈয়দা মহসিনা ডালিয়া — এক অদম্য, নির্ভীক এবং প্রতিবাদী মানুষ, যার কণ্ঠ সবসময় উচ্চারিত হয় অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের আহ্বানে। নিজের পরিচয়ের প্রসঙ্গে আমি গর্বের সঙ্গে নিজেকে পরিচয় করাতে ভালোবাসি একজন প্রগতিশীল বিপ্লবী হিসেবে, যে আপসহীনভাবে সত্য ও স্বাধীনতার পথে হাঁটে।
বাংলাদেশের এক রক্ষণশীল পারিবারিক পরিবেশে আমার জন্ম, কিন্তু আমার চিন্তা কখনোই সেই সীমাবদ্ধতার শৃঙ্খল মেনে চলেনি। কৈশোর থেকেই ধর্ম ও তার কঠোর নিয়মের প্রতি আমার প্রশ্নবোধ প্রবল হয়ে ওঠে। অবশেষে আমি ধর্মীয় গোঁড়ামির বন্ধন ছিন্ন করে নিজেকে মুক্ত করেছি, বেছে নিয়েছি মুক্তচিন্তার পথ।
এই সিদ্ধান্ত শুধুই একটি ব্যক্তিগত পছন্দ ছিল না—এটি ছিল সাহস, দৃঢ়তা আর আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। যেখানে একদিকে ছিল গভীর ধর্মীয় প্রভাব, অপরদিকে পরিবারের কঠোর অনুশাসন; কিন্তু আমি জানতাম, অদৃশ্য কোনো সত্ত্বায় অন্ধ বিশ্বাসের চেয়ে নিজের বোধ ও বিবেকের ওপর আস্থা রাখা অনেক বেশি মূল্যবান।
আমার লেখার প্রধান বিষয়বস্তু হলো নারী অধিকার, সমকামী অধিকার, নাস্তিকতা, ধর্মীয় উগ্রবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, এবং সমাজের নানা বৈষম্য ও ভণ্ডামি। আমি বিশ্বাস করি, নিজের মত প্রকাশের মধ্য দিয়েই পরিবর্তনের সূচনা ঘটে। সেই বিশ্বাস থেকেই আমি নিরন্তর লিখে যাই, কথা বলি, এবং অসহায় গোষ্ঠীগুলোর অধিকারের পক্ষে দাঁড়াই।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস—আমার কোনো লেখা যদি মাত্র একজন মানুষের জীবনেও চিন্তার আলো জ্বালাতে পারে, তাহলে সেটিই হবে আমার লেখালেখির প্রকৃত সার্থকতা। এই ব্লগে প্রকাশিত প্রতিটি বক্তব্য আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তার প্রতিফলন। মতের পার্থক্য থাকা একেবারেই স্বাভাবিক, তবে আমি সর্বদাই সৃজনশীল ও গঠনমূলক সমালোচনার জন্য উন্মুক্ত।
– সৈয়দা মহসিনা ডালিয়া
নারীবাদী ব্লগার এবং অধিকারকর্মী